IWM এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি PDF Print E-mail

 

সংস্থার পটভূমি-

IWM, সারফেস ওয়াটার সিমুলেশন মডেলিং প্রোগ্রাম (SWSMP) হিসেবে ১৯৮৬ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্টেট-অব-দ্যা-আর্ট ম্যাথমেটিক্যাল ওয়াটার মডেলিং এর একটি উচু মানের বিশ্লেষণাত্নক ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থা গঠনের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে গঠিত হয়।
১৯৮৭ ও ১৯৮৮ এর ভয়াবহ বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সকল গাণিতিক পানিতাত্ত্বিক মডেলিং এবং বন্যা কর্মপরিকল্পনা সম্পাদনের জন্য একটি টেকসই পেশাদারী ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার লক্ষ্যে SWSMP, DHI এর কারিগরী নির্দেশনায় সারফেস ওয়াটার মডেলিং সেন্টার (SWMC) নামে একটি নতুন প্রকল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর ২য় ও ৩য় পর্যায়ের যাত্রা অব্যাহত রাখে। ১৯৯৬ এর শেষে, সারফেস ওয়াটার মডেলিং সেন্টার (SWMC) ট্রাস্ট আইনের অধীনে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়।
গবেষণা এবং শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারফেস ওয়াটার মডেলিং সেন্টারকে (SWMC) ১লা অগাষ্ট, ২০০২ এ ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM) নামকরণ করা হয়।

IWM ব্যবস্থাপনা-

বোর্ড অব ট্রাস্টিজ IWM এর পরিচালনাকারী পর্ষদ। এই বোর্ড IWM ব্যবস্থাপনায় নীতি নির্ধারণী দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দেশী বিদেশী প্রতিষ্ঠান এর ১৪ জন সদস্য নিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠিত। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বর্ণিত ট্রাস্ট এর চেয়ারপার্সন। দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার জন্যে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন নির্বাহী পরিচালক। ছয়টি বিভাগের মাধ্যমে IWM এর সেবা দেওয়া হয়। যথা: সেচ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ পরিকল্পনা, নদী প্রকৌশল, বন্যা ব্যবস্থাপনা, জরীপ ও তথ্য এবং উপকূল, বন্দর ও মোহনা ব্যবস্থাপনা। কতিপয় ইউনিট এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যথা: মানব সম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা এবং উন্নয়ন, গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ, সিস্টেম ব্যবস্থাপনা, GIS ও তথ্য প্রযুক্তি এবং ব্যবসায় উন্নয়ন।

কর্মী সম্পদ এবং দক্ষতার ক্ষেত্র-

IWM এর জনবল সংখ্যা প্রায় ৩৪০, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ জনবল নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উচুঁমানের পেশাদার বিশেষজ্ঞ। কর্মীদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে নিয়মিত দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। কিছু সংখ্যক কর্মী বর্তমানে উচ্চতর শিক্ষার (এমএস এবং পিএইচডি) উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থান করছে। এ প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এধরনের কর্মসূচীতে সবসময় উৎসাহ প্রদান করে আসছে।

প্রযুক্তিগত অংশীদারগণ-

দীর্ঘ সময় ধরে IWM বিভিন্ন দেশী বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রেখে আসছে। DHI Water and Environment Denmark এই প্রযুক্তি আদান প্রদানে একটি ঘনিষ্ঠ অংশীদার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (BUET), এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (AIT), থাইল্যান্ড, এইচআর ওয়ালিংফোর্ড, ইউনাইটেড কিংডম এবং ডেলফ্ট হাইড্রোলিক্স অব দ্যা নেদারল্যান্ডস এর সাথেও অনুরূপ সম্পর্ক রয়েছে।

কর্মদক্ষতা-

কম্পিউটেশনাল হাইড্রোলিক্স এর ক্ষেত্রে IWM এর উচ্চমানের কর্মদক্ষতা রয়েছে। বর্তমানে IWM এর মডেলগুলো বাংলাদেশে নদী প্রবাহ ও বন্যা, সেচ ও নিষ্কাশন, মরফোলজি এবং পলল পরিবহন, লবণাক্ততা এবং পানির মান, অফটেক ডাইনামিক্স, কোস্টাল ও অফশোর হাইড্রোলিক্স, জলবায়ূ এবং ভূগর্ভস্থ পানি প্রবাহ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাইড্রোডাইনামিক মডেলগুলো নদী ড্রেজিং পরিকল্পনা, সেতু-র হাইড্রোলিক নকশা ও নদী শাসন কাজ, শক্তিকেন্দ্রের জন্য পানির তাপমাত্রা গবেষণা, বন্দর এবং হারবার এ পলল সঞ্চয়, উপকূলের নিরাপত্তা, ভূমি পুনরুদ্ধার ও নৌপথ সংরক্ষণ, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
মডেলগুলো উন্নয়নে নিজস্ব তথ্যসংগ্রহ প্রক্রিয়ায় এবং বড় নদীগুলোতে স্টেট-অব-আর্ট কৌশল এবং সরঞ্জাম যেমন, আরটিকে-জিপিএস , ডিজিপিএস, ডিজিটাল ইকো সাউন্ডার, এডিসিপি, ডিরেকশনাল কারেন্ট মিটার এন্ড টারবিডিটি মিটার ব্যবহার করে, দ্রুত ও সাশ্রয়ী নদীজরীপের জন্য IWM বিশেষ পারদর্শী। ডিজিটাল জিও-রেফারেন্স, জিওইড মডেল এবং টোটাল ষ্টেশন ব্যবহার করে জিআইএস ভিত্তিক টপগ্রাফিক মানচিত্রসমূহ তৈরীর জন্য বর্তমানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের জন্য IWM দীর্ঘদিন ধরে একটি সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে; তথ্যভান্ডারটি সম্পূর্নরূপে কম্পিউটারাইজড।

আর্ন্তজাতিক অভিজ্ঞতা-

মালয়েশিয়ার সারওয়াক উপত্যকা, শ্রীলঙ্কার নীল গঙ্গা নদীর বন্যা পূর্বাভাস, নিউজিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির সাথে সমুদ্রস্তর উচ্চতা, ন্যাশনাল হাইড্রোলিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব মালয়েশিয়া, তাজিকিস্তান বন্যা ব্যবস্থাপনা, নেপাল বাগমতি বেসিন উন্নয়ন, জহর উপসাগরের উপকূলীয় ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প এর ইআইএ, মালয়েশিয়ার লাংকাওই দ্বীপ এবং মালাক্কা প্রণালীর পানিতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি সেবা প্রদান করেছে।

IWM এর ভবিষ্যৎ-

গত এক যুগ ধরে IWM কর্মদক্ষতা ও কর্মপরিধি উন্নত, প্রসারিত এবং বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ট্রাস্ট এর টার্নওভার তিনগুণ বেড়েছে এবং কর্মশক্তি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুনেরও বেশী। IWM হিসেবে নতুন নামে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার দিগন্ত প্রসারিত করতে সচেষ্ট। দেশের পানি সম্পর্কিত পরিবেশের সামগ্রিক অবনতির বিষয়টি আরও গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করে। এক্ষেত্রে IWM বিশদ গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য সচেষ্ট। একইসাথে IWM পানি সংক্রান্ত মডেলিং, কম্পিউটেশনাল হাইড্রোলিক্স এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানে বিশ্বমানের সেবা প্রদানের জন্য এবং নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানটির নিবেদিত প্রাণ এবং যোগ্য পেশাদার জনবলের সমন্বয়ে গঠিত দলটি ভবিষ্যতে আরও সফলতা এবং পরিচিতি লাভের দাবিদার। দেশে ও বিদেশে IWM এর কর্মপরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা IWM এর রয়েছে।




 

 
কপিরাইট © ২০০৯-২০১৪ ইং, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত, ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং